Welcome Visitor: Login to the siteJoin the site

Rebel Trilogy in Bangla

Novel By: Fahmid
Action and adventure


This is the whole rebel trilogy in Bangla.... View table of contents...


Chapters:

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13

Submitted:Mar 11, 2013    Reads: 32    Comments: 0    Likes: 0   


স্কুল প্রটেকশান আর্মি- বিদ্রহতা শুরু

পরিচিতি

৪০ বছর বয়সে আমি এই কথাটি বলি যে আমি যুবককালে অনেক লড়াই করেছি। আমি, আবির হুসেইন, ডি আর এফ এর (ডাবল র‍্যাপিড ফায়ার এক্সান) মালিক এবং পরামর্শক। আমি এই গল্পটি তিন পর্বের মাধ্যমে বলব। কিছু লোক আমাকে নায়ক বলে কারণ আমি এমন কাজ করেছি যে লোকে বুঝতে পারে কিন্তু নিজেকে প্রসংশা করা বকামীর কাজ। আমার হারানো ছোট বেলায় আমি একটি দল বানিয়ে ছিলাম। নামটি হল 'স্কুল প্রটেক্টশান আর্মি' এবং আমি আবার যুবকালে এই দলটি শুরু করেছি। আমি এই সব যুদ্ধ নিয়ে খুবই ক্লান্তিত-আর করতে চাই না।

আমি যে গল্পটি এখন বলব এইটা আমার ছটো বেলায়। এই গল্পটার বলার বিভিন্ন কারণ আছে। আমরা ছোট বেলাই অনেক নেচেছি এবং হাশিখুশি ছিলাম কিন্তু এই দল বানানোর পর দায়িত্ববান হয়েছি। আমার ব্যাগের মদ্ধ্যে চিঠি ছিল। আমি যখন দারজেলিং-এ ছিলাম, তখন আমি চিঠিগুলি পড়তাম, তখন তাদের কথা এতো মনে পড়েই যে আমি ব্রাশ করতে ভুলে যেতাম। যাইহুক এই গল্পটা মাত্র শুরু তাই আমি বেশী কিছু বলছি না। আমি এই গল্পের কিছু মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেই:-

  • রুমা- আমার শিক্ষিকা এবং পরামর্শক। এনার জন্য আমি আজ এই অবস্থায় আছি।আমি আশা করি যাতে আপনাদের এই চিত্রটি খুবই পছন্দ হবে। আমি তাঁর আচার-আচরনের খুবই আগ্রহ করি। সে যুবতি এবং চঞ্চল ধরণের মেয়ে ছিল।
  • রমযান ভাই- স্কুলের পিওন। সে খুব সহজ সরল ছিল, এবং আমার সব চেয়ে ভালো বন্ধু। সে সে মাঝে মধ্যে তার নিজের কাজ ভুলে যায়, কিন্তু যখন 'স্কুল প্রটেকশন আর্মি' শুরু হয় তখন সে ঠিক মত দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাকে আমি মনে মনে বলি 'ঠিক মত দায়িত্ব পালন কর'।
  • বিল্ডার ভাই- সব চেয়ে শয়তান লোক। জীবনে আমি এরকম লোক দেখিনিই। সে প্রায় সব কিছুর উপর নাক গলায়। সে হল এমন নিষ্ঠুর মানুষ যে আমাদের স্কুল ভঙ্গ করতে চায়।
  • ইরফান আজয়াদ- বিরক্তিকর ছেলে। আমার ক্লাসমেট। সে সুযোগ পেলেই সে শিক্ষকদেরকেও বিরক্তি করে। তার নষ্ট আচরনের জন্য আমি খুবিই বিরক্তি হই। কিন্তু যারা খুবিই চতুর আর চালাক তাদের কাছে নিজে ঠোকে যায়।
  • রুবিনা- আমার প্রেম এবং আমার ছোটবেলার সাথী (এখন আমার স্ত্রী)। আমার মনে গিটার বাজে যখন তাকে আমি দেখি। আমি দারজেলিঙ্গে থাকতে তার জন্য হাজারটা গান লিখতাম।
  • শহাগ, সালিন, রশিদ এবং তাহ্রিমা- সবাই আমার বন্ধু। তারাই এই দল তৈরি করার জন্য আমাকে সাহায্য করেছে।
  • এয়ামান স্যার- প্রিন্সিপাল স্যার। খুবই ভালো লোক। তিনি আমাদেরকে অনেক সহাওতা করেছেন।

আমার ছোট বেলার এক একটা সৃতি খুবই মনে পড়ে এবং এই কথাগুলি আজকে আমি বলবো। আমার মনে হয় এই গল্পটি আপনাদের দেশপ্রেম, ভালোবাসা এবং ব্যথার উপর সন্দেশ দিবে। সবাই মনে রাখেন আদর্শ কখনো মৃত হয় না। আমি রুমাকে দিয়ে গল্প শুরু করি কারণ তিনি আমার জীবনের বিন্দু ছিলেন। আমার মুল গল্পের নাম হল 'বিদ্রহী' যার নাম কাজি নজরুল ইসলাম-এর কবিতার থেকে অবলম্বন করা হয়েছে। এই গল্পের মাঝে কখনো ভাব্বেন না যে চিত্রগুলি ভাল কি না খারাপ। আমি এইভাবে গল্পটি শুরু করব। আর হা, এই গল্পটি প্রথম পর্বের নাম 'স্কুল প্রটেকশন আর্মি' রেখেছি। আপনারা আমাদের চিত্রটির নাসূচক মূখ পরের পর্বে দেখতে পারবেন।

অধ্যায়-১ শুরু

২০০৩ সাল- গরম এবং ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। এক লম্বা মেয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে গান শুঞ্ছিল। সে লম্বা এবং ফর্সা ছিল। সে এক সুন্দর সালোয়ার কামিজ পড়ে ছিল এবং লম্বা লম্বা চুল। সে ২ তালার বাড়ির সামনে গিয়ে সাইনবোর্ডে 'সাহ একাডেমী হাই স্কুল' পড়ে ছিল। সে সুখ মনে একাউন্ট্যান্ট-এর অফিসে গিয়ে এক ঘণ্টার উপরে বশে ছিল। হঠাথ ঘন্টা বেজে উঠলো এবং ডেকে বলল যে "রুমা আহম্মেদ, আপনাকে প্রধান শিক্ষকের অফিসে ডাকা হয়েছে"।

যখন সে অফিসে ঢুকেন তখন তিনি দেখেন যে প্রিন্সিপাল স্যার একটা দরকারি চিঠি লিখছিলেন। তিনি একটু মোটা ছিল এবং চার কোনা ফ্রেইমের চশমা পড়ে আছেন। তিনি দামি জ্যকেট এবং সাদা সার্ট পড়ে ছিলেন এবং তার হাতে একটা দামি ঘড়ি ছিল। রুমাকে দেখে সে একটা মুচকি হাশি দিল এবং অনার চেয়ার সামনে ঘুড়িয়ে দিল।

তিনি বললেন "আসেন, বসুন"

রুমা চেয়ারে বসলেন।

"আমি আপনার সাথে দেখা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিলাম। আপনি জানেন যে কেন আপনাকে আসতে বলেছি?"

"জানি নি স্যার" রুমা বলল।

"আজকাল আমাদের পড়াশোনা মমের মতো গলে যাচ্ছে। আমাদের সন্তান্দের উৎসাহ কমে যাচ্ছে। সব চাইতে খারাপ লাগছে সৎ শিক্ষক কমে যাচ্ছে কিন্তু আমার বিশ্বাস আছে যে আজেও সৎ শিক্ষক বেচে আছে। আমি দেখে ছিলাম যে আপনি রাস্তায় বাচ্চাদেরকে সাহায্য করেছন?" প্রিন্সিপাল জিজ্ঞ্যাশা করলেন।

"জি স্যার, আমি খুশি হব যে আমি এই স্কুলের বাচ্চাদেরকে পড়াবো" বলল রুমা।

"আপনার পরিবারে কে আছে এবং আপনি পড়াশোনা কোথাই করেছেন? আপনি কিছু মনে করেন না যদি আপনার পরিবারের কথা বলি" বলল প্রিন্সিপাল।

"স্যার আমার পরিবারের কথা বললে আমার এক্তু দুঃখ লাগবে কারণ আমার মা দুনিয়াতে নাই এবং আমার বাবা হল ডি সি পি অফিসার।তিনি আমাকে এমন ভাবে গড়িয়ে তুলেছেন যে আজকে আমি এই পর্যায় আছি। আমি অনার্সে পড়াশোণা করেছিনর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির থেকে। আমার জীবনে আনেক কিছু জিনিশ লুকিয়ে আছে যেটা আমি বলতে পারবো না।"

প্রিন্সিপালস্যার রুমার চোখটা গভির ভাবে দেখল। স্যার বললেন "আপনার চোখে, সততা এবং সরলতা দেখা যায়। আপনার সাথে দেখা করার জন্য খুবই খুশি হলাম"।

রুমা যখন সালাম দিল, তখন তিনি ক্লাস রুমে পড়াতে চলে গেল। এই খানে দেখা গেল যে ক্লাস্রুমে এক ছোটো এবং মোটা তিন ফুট ছেলেকে পাঁঞ্চ জন ছাত্ররা খেপাচ্ছিল। রুমাতাদেরকে থামিয়ে ক্লাস নিল। ঘন্টা বেজে ছিল, সবাই হাশি-খুশিতে ক্লাস রুম থেকে চলে যাচ্ছে কিন্তু ওই মোটা ছেলে ক্লাস থেকে যাই নেই। রুমা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ছিল এবং ছেলেটা খুবই দুঃখে ছিল এবং ভয় পেয়েছিল। তারপরে ছেলেটি বসে লম্বা টেবিলেই মাথা দিয়ে ছিল। রুমা ছেলেটির হাত বুলিয়ে দিলো।

তিনি মিষ্টি মুখে বললেন "এই ছেলে তোমার নাম কি?"

মোটা ছেলেটি বলল "আবির হুসেইন"।

রুমা বলল " তুমি এতো চুপচাপ কেন?তোমার কিছু হয়েছে?"

আবির (মোটা ছেলে) জবাব দিল "আমার কোনো বন্ধু নেই, আমি একা থাকি। জানি না আমি কেন মোটা?"

রুমা হেসে বলল "না বোকা ছেলে। তারা জানে না যে তোমার ভিতরে কিছু আছে"।

আবির হাশি দিল।

"সত্যি? আমি জানি না। আমার ভিতরে কি আছে?" জিজ্ঞ্যাশা করল আবির।

"তুমি ভালো ইংরাজিতে কথা বল কিন্তু কখনো তোমার মাত্রি ভাষা ভুল্বা না" বলল রুমা।

"ঠিক আছে মিস। কালকে দেখা হবে" আবির খুশিতে বলল।

সে গেইট থেকে বের হল এবং রুমা হাত বাড়িয়ে টাটা দিল। তারপর রুমা ঘরে গিয়ে বসে ভাবল যে ছেলেটার কি হয়েছে? কেন সে এক উত্তর দেয় যখন কেউ দশটা প্রশ্ন করে? সে এতো ভয় পাই কেন? কোনো রহস্য আছে কিনা?

অধ্যাই-২ স্কুলের প্রথম দিন

এক দিন পর, রুমা স্কুলে ঢুকে এবং দেখে যে প্রিন্সিপাল এয়ামান স্যার বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।যখন তিনি হাপিয়ে গেলেন তখন এক পিওঙ্কে ডাকল।

তিনি চিৎকার দিলেন "রমযান! পানি নিয়ে এশো!"

একজন লম্বা এবং চিকন লোক (পিওন্টি) গারো রুপালি রঙের পশাক পড়া বাল্টি নিয়ে এসে দাড়াইলো।

"তুমি বাল্টির পানি নিয়ে এসেছো কেন?" জিজ্ঞ্যাশা করল প্রিন্সিপাল স্যার।

"আপনি তো বলেছেন যে পানি নিয়ে এশো" বলল রমযান।

"হা, বলে ছিলাম যে এক গ্লাশ পানি নিয়ে এশো আমি বলি নি যে এক বাল্টি পানি নিয়ে এশো!" বলল প্রিন্সিপাল স্যার।

রমযান পিছনে ঘুরলো। কিন্তু আবার সে সামনে ফিরলো যেহেতু তার মনে উল্টাপাল্টা হয়েছিলো।

"তাহলে আমি কি করব স্যার?" জিজ্ঞ্যাশা করল রমযান।

"আমার মাথায় ঢেলে দিও" বলল প্রিন্সিপাল স্যার।

রমযান স্যারের মাথায় পানি ঢেলে দিল এবং তার কাপড় ভিজে গেছে। স্যারের কান থেকে ধোঁয়া বের হল এবং তিনি রাগ হয়ে তার মুখ লাল হল। সে হাপিয়ে চীৎকার দিল "ওই গাধা কথাকার!"

যখন প্রিন্সিপাল স্যার রুমা কে দেখল তিনিবললেন "দুঃখিত, এইটা এমনি এইশব ঘটনা ঘটে। কালকে আপনার সাথে দেখা হবে!"

স্যার কেঁপে কেঁপে এবং নেচে হাঠলো। আবির ছাড়া সবাই এই ঘটনা দেখে হেশে ছিল। যখন রুমা আবিরকে একলা বসে থাকতে দেখল তখন রুমা উপভোগ করলো যে আবিরের সাথে কেউ কথা বলে না এবং তার বন্ধু নেই। ক্লাশের মাঝখানে এক ছেলে (আজওাদ) এসে আরেক ছেলেকে এমনভাবে বিরক্তি করল যে সে চকলেট চাচ্ছিলো। যখন ছেলেটি চকলেট দিল না তখন সাইরেনের মোতো কাঁদতে শুরু করল। তখন রমযান ভিতরে গিয়ে কলা দিয়ে আজয়াদের মুখ বন্ধ করল। ক্লাসের পরে আবির ছাড়া সবাই চলে গেল। রুমা জিজ্ঞ্যাসা করল "আবির, তুমি এতো চুপচাপ কেন? তোমার সাথে কেউ খেলে না?"

"না" আবির জবাব দিল।

"ও আচ্ছা। তোমার খিদা লেগেছে?" জিজ্ঞ্যাসা করল রুমা।

"হ্যা" বলল আবির।

"চল আমরা দোলনায় ঝুলি!" বলল রুমা।

"ঠিক আছে!" বলল আবির।

আবির মুচকি হাশি দিল এবং রুমাকে মাঠে নিয়ে গেল। মাঠে ছিল লম্বা লম্বা ঘাষ এবং বালি দিয়ে ছড়ানো। মাঠটা অনেক বড়। তারপর আবির এবং রুমা ভালো মন্দ কথা বলল।

"আবির, তমার পরিবারের কে আছে?" জিজ্ঞ্যাশা করল রুমা।

"আমার বাবা হল সব চেয়ে বড় হোটেলের মালিক এবং আমার মা একটু বিরক্তিকর কিন্তু খুবই ভালো মানুষ। আমি এরকম কারণ আমার এক চাচা এই দুনিয়াতে আর নাই। আপনি মনে হয় চিটিসেলের ঘটনাটি শুনেছেন?"

"খুবই দুঃখিত আবির। সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে" বলল রুমা।

যখন হর্ন শুনা যায় তখন আবির মুচকি হেসে সে রুমাকে টাটা দিয়া চলে গেল। এইটা আবিরের জন্য ভালো দিন ছিল কারণ সে রুমাকে তার আপনের মোতো দেখল। সে খুশি ছিল এবং ভাবছিল যদি তার এক বোন থাকতো তাহলে সে এরকম হত না।

অধ্যাই-৩ বন্ধুক্ত

টিফিনের সময় আবির মাঠে বসে ছিল। সে তাকিয়ে দেখলো যে এক মেয়ে তার ২ বন্ধুদের সাথে দোলনা খেলছিল। সে আবিরের সমান ছিল এবং স্কারট পড়া ছিল।

"রুবিনা" আবির মনে মনে বলল।

আবির স্বপ্ন দেখলো যে সে গিটার নিয়ে বেসুরা গান গেয়ে ছিল এবং রুবিনা নাচ্ছিলঃ

তোমার চোখ সুন্দর

আমি এসেছি,

তোমার গন্ধ শুনে

আমি এসেছি।

ঝাকানাকা দেহ ধোলা নাই।

শনি তুমি

রবী তুমি

সব দিন তুমি।

আই এম পম গানা।

সব দর্শকেরা তালি বাজিয়েছে এবং তালের জন্য খুশিতে চিৎকার দিয়েছিল। কিন্তু এক চুটকির জন্য তার স্বপ্ন নষ্ট হল। সে আস্তে আস্তে স্বপ্ন থেকে উঠল এবং দেখল যে রুমা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আবির মুচকি হেশে ক্লাশে চলে গেল। যখন ক্লাশ শেষ হল তখন আবির গেটে গেল এবং এই গেট বড় মাঠের সামনে ছিল। তারপর আবির দেখল যে সামনে রমযান দাঁড়িয়ে আছে। রমযান খুশিতে হাত দেখাল এবং বলল "আচ্ছালাম্বুয়ালাইকুম আবির ভাইয়া, কেমন আছো?"

আবির খুশিতে জবাব দিল " ভালো আছি! আজকের দিনটি খুবই ভালো যাচ্ছে!"।

হঠাত আজয়াদ এসে জিজ্ঞ্যাসা করল "আমি আপনার কাছ থেকে দুধ নিতে পারি রমযান ভাই? আবির তোমার কাছ থেকে ভিডিও গ্যাম নিতে পারি?"

রমযান বলল "তুমি কি লুকাচুরি খেল্বা?"

আজয়াদ বলল "না"

রমযান বলল "তুমি কি টয়লেটে যাবা?"

আজ্বাদ বলল "না"

রমযান বলল "তাহলে কি করবেন বালক?"

আজওয়াদ বুঝতে পেরেছে যে কাওকে বিরক্তি করা ভালো নয় এবং তার মন খারাপ হল। তারপর আবির আজয়াদের ঘারে হাত বুলিয়ে দিল। প্রথম বার আজয়াদ চুপচাপ কারে কাদছিল এবং আবির এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আযওাদ পিছনে তাকিয়ে বলল " আমরা কি বন্ধু হতে পারি?"

"হা" বলল আবির এবং সে আজয়াদের সাথে হাত মিলাইল। তার পর আবির তার বাসাই রুমাকে নিয়ে গেল। বাসার ভিতরে বুক কেইস, প্লাজমা টিভি এবং অয়ালপ্যাপার দিয়ে সাজানো ছিল। যখন আবিরের বাবা রুমাকে দেখতে পারলো তখন সে জিজ্ঞ্যাসা করল " আপনি কি আবিরের মিস?"

"জি স্যার" বলল রুমা।

"আজকাল আমার ছেলে আপনাকে অনেক প্রশংসা করে এবং তাকে অনেক দিন পর হাসতে দেখলাম। তার পুরানো জায়গায় চলে এসেছে এবং অনেক ভালো ব্যাবহার করছে। আমি এইটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি" বলল আবিরের বাবা।

আবিরের মা সোয়েটার শেলায় করে রুমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আবিরের মা শ্যামলা কিন্তু তার মুখ সুন্দর ছিল। তিনি মুবকি হাসলেন এবং মাথা ঝকিয়ে ছিলেন। আবিরের বাবা স্বাস্থ্যবান কিন্তু তার পিছনে চুল ছিল।সে ছিল ফর্সা এবং সে চার কোনা চশ্মা পড়তো।

"আমি খুশি যে আবিরের আচরণ বদলে গেছে। রুমা, আমি আসা করি যে আপনি তাকে ভালো করে পরামর্শ দেন এবং তার পড়াশোনাটি আরো উন্নতি করতে পারেন" বলল আবিরের মা।

"সে আমার সাথে ভালো থাকবে ম্যাডাম। চিন্তা করেন না। আমি তাকে ভাল মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবো। আমি কোনো টাকা পয়সার জন্য শিখাই না কিন্তু আমি শিখাই সততা দিয়ে" বলল রুমা।

"কোনো অসুবিধা নাই। এইটায় আমরা আসা করে ছিলাম। তাহলে বলব 'সব কিছু ঠিক আছে"।

যখন রুমা আবিরের পড়াশোনার কথা বলল তারপর আবিরের গায়ে চুম্মা দিয়ে বলল "কালকে আবার দেখা হবে। আল্লাহ্‌ হাফিজ"।

অধ্যাই-৪ বিল্ডার ভাই

আরেক দিন যখন আবির স্কুলে ঢুকতে লাগে তখন দেখে এক মোটা লোক শক্ত কোট পড়ে ছিল এবং কালো টাই পড়েছিল। তার সাথে ছিল এক লম্বা চিকন মানুষ যে পড়ে ছিল গোল চান্দের মত চশ্মা যে ছিল ২ ইঞ্চি খাটো ওই মোটার লোকটা চেয়ে। তার হাতে ছিল প্যাড এবং কলম।

"স্যার, আপনি কেন স্কুল ভাঙতে চাচ্ছেন?" জিজ্ঞ্যাসা করল চিকন লোক।

"আমি একটা এপার্টমেন্ট বানাতে চাই, রাজু আমার সেক্রেতারি" বলল মোটা লোকটি (বিল্ডার)।

রাজু (চিকন লোকটি) বিড়বিড় কবে বলল "নিজেকে কি মনে করে?-"

বিল্ডার বলল "হা কি বলছ?"

রাজু ভয়ে বলল "কিছু নয় স্যার!"

বিল্ডার বলল "যদি আমি স্কুল ভাঙ্গি তাহলে আমি ওই ছেলেকে পাবো। তাকে পেইলে মেরে ফেলবো"।

"কিন্তু স্যার, তার বয়স অনেক কম, তাকে এখনি মেরে ফেলতে পারব না!" বলল রাজু।

বিল্ডার তার হাথ দিয়ে তার কংকাল মাথা লাঠিকে ঘুড়িয়ে দিল। সে সঙের মতো হেসে দিল এবং এমন জড়ে শয়তানি হাশি দিয়েছে যে কেউ শুনতে পারে নিই। সে বলল "আমার প্রিয় সেক্রেটারি, তোর এতো বড় মগজ আছে! আমরা তাকে সরাসরি কেন মেরে ফেলবো? গরধভ কতাকার!"

"স্যার আপনি ভালো! আপনার বুদ্ধি আছে!" কথা ভেঙ্গে দিল রাজু।

"চুপ কর! সবসময় কথার উপর কথা কেন বল? আমি স্কুল ভাঙার পর ওই ছেলেটাকে মেরে ফেলবো।যায়হুক, ছেলে কোথাই?" জিজ্ঞ্যাশা করল বিল্ডার।

"জানি না কোথায় আছে- আশ পাসে থাকতে পারে" বলল রাজু।

বিল্ডার রাজুকে থাপ্পর দিল এবং গাড়ীতে সি ডি বাজিয়ে শব্দ বাড়িয়ে দিয়ে ছিল। যখন সে হিপ হপ গান শুনছিল তখন সে আজব ভাবে নেচেছিল।তারপর সে রাস্তায় কলার ছোঁচা ফেলে দিল এবং তার ফলে এক লোক পিছলে পড়ে গেছিলো। চার বডিগারড সবাই হেশে ছিল। তারপর বিল্ডার হাত তুলিয়ে তাদের হাশি থামিয়ে দিল।

"আমার নাম বিল্ডার ভাই। আমি হিটলার। বলি সবসময় ইংলিশ এবং বাংলিশ। যদি আমি কলার ছোঁচা ফেলে দেই তো সবায় বাই বাই। আমরা সময় নষ্ট করছি চল" বলল বিল্ডার।

"আপনি পড়াশুনা পরিবেশ নষ্ট করিয়ে দিলেন এবং আপনি হেরে গেছেন" বলল রাজু।

"কি!?" খেপে গেল বিল্ডার।

"কিছু না স্যার" বলল রাজু।

তারা চলে গেল এবং আবির স্কুলে প্রবেশ করল। স্কুলে ঢুকার সাথে সাথে রুমার ক্যাবিনে গিয়েছিল এবং অইশব কথাগুলি বলল। তারা সাথে সাথে প্রিন্সিপাল স্যারের অফিসে গেল। তারা যখন স্কুল ভাঙার কথা বলল, স্যার অবাক হলেন। তিনি বললেন "আবির, যতদিন আমি আছি তত আমি একায় তাদেরকে তারানোর জন্য কিছু ব্যাবস্থা করব"।

"আপনি একা করতে পারবেন? তাদের কি চিন্তা নাই পড়াশোনা এবং কর্তব্য-" রুমা জিজ্ঞ্যাশা করতে লাগলো।

"এখন কিছু বলা যাচ্ছে না, এবং এখন যে ভাবে বলা হয়েছে, সে ভাবে থাকুক। আমরা দেখছি" বলল প্রিন্সিপাল।





0

| Email this story Email this Novel | Add to reading list



Reviews

About | News | Contact | Your Account | TheNextBigWriter | Self Publishing | Advertise

© 2013 TheNextBigWriter, LLC. All Rights Reserved. Terms under which this service is provided to you. Privacy Policy.